পরিবার বাঁচাতে সমুদ্রে চার ঘণ্টার লড়াই: ১৩ বছরের অস্টিনের অবিশ্বাস্য সাহস

পরিবার বাঁচাতে সমুদ্রে চার ঘণ্টার লড়াই: ১৩ বছরের অস্টিনের অবিশ্বাস্য সাহস

পরিবার বাঁচাতে সমুদ্রে চার ঘণ্টার লড়াই: ১৩ বছরের অস্টিনের অবিশ্বাস্য সাহস

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে এক সাধারণ পারিবারিক আনন্দের দিন মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় ভয়াবহ এক সংগ্রামে। সমুদ্রে ভেসে যাওয়া পরিবারকে বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টানা চার ঘণ্টা সাঁতার কেটে সাহায্য আনেন মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর—অস্টিন অ্যাপেলবি। তবে নিজেকে কোনো নায়ক ভাবতে নারাজ সে। তার ভাষায়, “আমি নিজেকে নায়ক ভাবিনি, আমি শুধু যেটা করা দরকার ছিল সেটাই করেছি।”

{getToc} $title={Table of Contents}

হঠাৎ বিপদে পড়া পরিবার

গত শুক্রবার পার্থে ফেরার কথা ছিল জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭) ও তার পরিবারের। তার আগে কুইন্ডালাপ বিচে দুইটি প্যাডেলবোর্ড ও একটি কায়াক নিয়ে সমুদ্রে সময় কাটাচ্ছিলেন তারা। শুরুতে পানি ছিল অগভীর, কিন্তু হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে যায়।

জোয়ান জানান, শিশুরা একটু বেশি দূরে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তারা বৈঠা হারান এবং ধীরে ধীরে সমুদ্রের গভীরে ভেসে যেতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সাহায্যের জন্য সমুদ্রে নামেন অস্টিন

পরিবারকে বাঁচাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় জোয়ানকে। ১২ বছরের বিউ ও আট বছরের গ্রেসকে একা রেখে যাওয়ার উপায় ছিল না। তাই পরিবারের বড় সন্তান অস্টিনকে সাহায্য আনতে পাঠানো হয়।

অস্টিন একটি কায়াক নিয়ে তীরে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেননি, কায়াকটি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং তাতে পানি ঢুকছিল। কিছু দূর যাওয়ার পর কায়াক উল্টে যায়, অস্টিন বৈঠা হারায় এবং ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে এক কিশোর

ক্যাপসাইজ হওয়া কায়াক আঁকড়ে ধরে অস্টিন বুঝতে পারে, আর অপেক্ষা করলে চলবে না। তখন সে তার পরিবারকেও দেখতে পাচ্ছিল না, তারাও তাকে দেখতে পাচ্ছিল না। চারপাশে ঢেউ ক্রমেই বড় হচ্ছিল, আলোও কমে আসছিল।

শেষ পর্যন্ত সে কায়াক ছেড়ে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ সাঁতরে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়। এক পর্যায়ে লাইফ জ্যাকেটও খুলে ফেলে, কারণ সেটি তাকে সাহায্য করছিল না। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাঁতারের সময় প্রার্থনা, খ্রিস্টান গান এবং পরিবারের কথা ভেবেই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে সে। ভয় পেয়েছিল, কিন্তু হাল ছাড়েনি।

{getCard} $type={post} $title={আরও পড়ুন}

তীরে পৌঁছে আবার দায়িত্ব

অবশেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অস্টিন তীরে পৌঁছায়। তখন তার মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন স্বপ্ন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার মনে পড়ে—তার পরিবার এখনো সমুদ্রে ভেসে থাকতে পারে।

সে মায়ের ব্যাগ থেকে ফোন নিয়ে জরুরি নম্বরে কল করে সাহায্য চায়। এরপর অস্টিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সুখবর

অস্টিনের ফোনকলের পরপরই শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান। অন্যদিকে, জোয়ান ও তার দুই সন্তান প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে সমুদ্রে ভেসে ছিলেন এবং প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে চলে গিয়েছিলেন।

অবশেষে উদ্ধারকারী দল তাদের খুঁজে পায়। সবাই নিরাপদ ছিলেন—ক্লান্ত, ব্যথায় জর্জরিত, কিন্তু গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই।

“আমি ভেবেছিলাম, অস্টিন বেঁচে নেই”

মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোয়ান বলেন, তিনি ধরে নিয়েছিলেন অস্টিন আর বেঁচে নেই। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই তার ভয় বাড়ছিল—অস্টিন ঠিকমতো সাহায্য পাবে তো? নাকি তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

শেষ পর্যন্ত পরিবারকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেয়ে তিনি বলেন, “এটা ছিল একদম নিখুঁত শেষ—সবাই ভালো আছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”

শেষ কথাঃ উদ্ধারকারীরা অস্টিনের এই সাহসিকতাকে “সুপারহিউম্যান” বলে বর্ণনা করলেও, অস্টিন নিজেকে সাধারণই মনে করে। তার কাছে এটি কোনো বীরত্ব নয়, বরং পরিবারের জন্য করা প্রয়োজনীয় কাজ। এই ঘটনা প্রমাণ করে—বয়স সাহসের মাপকাঠি নয়। কখনো কখনো সবচেয়ে বড় নায়করা নীরবেই নিজের দায়িত্ব পালন করে যায়।

বিশ্ব সংবাদ এ এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি, যাচাই-বাছাই করে সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। সংবাদটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। পরবর্তী সংবাদটি পড়ার আমন্ত্রণ রইল।

সুত্রঃ BBC

Previous Post Next Post