ইসরায়েলি নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন
আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত রীতি ও অলিখিত প্রটোকলকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য সমর্থন ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে ট্রাম্পের এই বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সাধারণত কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানরা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে থাকেন, যাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ না ওঠে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই প্রথাগত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত। ইসরায়েলি নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টির প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প শুধু তেল আবিবের নির্বাচনী সমীকরণকেই প্রভাবিত করেননি, বরং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করেছেন।
{getToc} $title={Table of Contents}সমর্থনের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের ঘোষণা
এক বিশেষ বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহুর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, নেতানিয়াহুর মতো শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা নেতা ছাড়া বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং আঞ্চলিক শত্রুভাবাপন্ন শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ট্রাম্পের এই সমর্থন কেবল মৌখিক প্রশংসায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি নেতানিয়াহুকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরেন যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রেখে নিজ দেশের স্বার্থ শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেন। ট্রাম্প জানান, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কাজ করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই দ্বিপাক্ষিক মেলবন্ধন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করবে।
"বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক এবং অসাধারণ নেতা। ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থী শক্তির মোকাবিলায় তাঁর বিকল্প নেই। আসন্ন নির্বাচনে ইসরায়েলি জনগণের উচিত তাঁর ওপর পুনরায় আস্থা রাখা।" — ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের এই সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশের পরপরই ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহুর সমর্থকরা এটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখলেও, দেশটির বিরোধী দলগুলো একে স্পষ্টতই নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন ও নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব খাটানোর সরাসরি অপচেষ্টা বলে আখ্যায়িত করেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমীকরণ
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা অত্যন্ত সুসংহত। ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শাসনামলে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল যা কয়েক দশক ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিষ্ঠিত ধারা ভেঙে দিয়েছিল। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে ট্রাম্পের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ছিল যুগান্তকারী এবং বিতর্কিত।
জেরুজালেমকে স্বীকৃতি ও দূতাবাস স্থানান্তর
ট্রাম্পের শাসনামলে সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল অবিভক্ত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করা। আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আপত্তি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে বিপুলভাবে শক্তিশালী করেছিল।
গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব স্বীকার
সিরিয়ার কাছ থেকে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের কর্তৃত্বকে ট্রাম্প প্রশাসন বৈধতা দেয়। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন নেতানিয়াহুকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পিছপা হয়নি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব কূটনৈতিক নজির তৈরি করে।
ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশ—যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চুক্তি বা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ স্বাক্ষরিত হয়। ফিলিস্তিন সংকটকে পাশ কাটিয়ে আরব বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের যে রূপরেখা নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখছিলেন, ট্রাম্পের তৎপরতায় তা বাস্তবে রূপ লাভ করে। এই সাফল্য নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমর্থনের তাৎক্ষণিক প্রভাব
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। টানা যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি, সামরিক বন্দিদের মুক্তি নিয়ে জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু সরকারের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছিল। এমন একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের ডানপন্থী ভোটারদের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। ট্রাম্পের সমর্থন লাভ করায় নেতানিয়াহু ডানপন্থী ভোটারদের একত্র করতে সক্ষম হবেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ওপর নিজের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারে লিকুদ পার্টি ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে।
বিরোধী জোটের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপকে সহজে মেনে নিচ্ছে না। বিরোধী দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দেশকে বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক বানাচ্ছেন। বিরোধী দলীয় মুখপাত্রদের মতে, ইসরায়েলি ভোটাররা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে ব্যালটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন, কোনো বিদেশি নেতার নির্দেশে নয়।
"ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের হাতেই সুরক্ষিত থাকা উচিত। কোনো বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ্য সমর্থন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করার নামান্তর।" — ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় প্রতিক্রিয়া
এছাড়াও ইসরায়েলের মধ্যপন্থী এবং উদারপন্থী দলগুলো মনে করছে যে, ট্রাম্পের এই অতি-ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে ইসরায়েলকে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে একপেশে করে তোলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা সতর্ক করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা শুধু ইসরায়েলেই নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বমঞ্চে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ঘটনাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ নেতানিয়াহুর পুনর্বার ক্ষমতায় আসা বা তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও শান্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার আন্তর্জাতিক লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জুটি কখনোই দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে ছিলেন না এবং ভবিষ্যতে তাদের যৌথ কৌশল ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে আরও সংকীর্ণ করে তুলবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে নেতানিয়াহুর চরমপন্থী নীতিগুলোকে ট্রাম্প বৈধতা দিচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।
আরব বিশ্বের কূটনৈতিক সতর্কতা
আঞ্চলিক আরব দেশগুলো এই ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরবসহ যেসব দেশ ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনায় যুক্ত রয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পর তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের আগে নেতানিয়াহুর মতো আগ্রাসী নেতাকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনীতিকদের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গি
ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের কঠোর অনুসরণের পক্ষপাতী। ট্রাম্পের এই সরাসরি সমর্থন ইউরোপীয় কূটনীতিবিদদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কূটনীতির গতিপথ
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন মূলত ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও আগ্রাসী আঞ্চলিক নীতির ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়েরই দৃষ্টিভঙ্গি এক ও অভিন্ন। উভয়েই ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অস্থিতিশীল শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে চান। ফলে ট্রাম্পের সমর্থনে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় বহাল থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে গাজা এবং লেবাননের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশল আরও কঠোর হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করা নেতানিয়াহুর জন্য আরও সহজ হয়ে উঠবে। এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন কনজারভেটিভ শক্তি এবং ইসরায়েলি ডানপন্থী নেতৃত্বের মধ্যকার এই গভীর মিত্রতা আগামী দিনগুলোতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাবলয় ও ভূকৌশলগত ভারসাম্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।
শেষ কথাঃ ইসরায়েলি নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিবৃতি নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ক্ষমতা কাঠামোর একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক সংকেত। এই পদক্ষেপটি নেতানিয়াহুর ভঙ্গুর অভ্যন্তরীণ অবস্থানকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলেজ এনে দিতে পারে। তবে একই সাথে এটি ইসরায়েলের সমাজব্যবস্থাকে আরও মেরুকৃত এবং ফিলিস্তিনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে ইসরায়েলি জনগণ ট্রাম্পের এই ‘পরামর্শ’ গ্রহণ করবেন নাকি প্রত্যাখ্যান করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের অনাগত ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
তথ্যসূত্রঃ Al Jazeera