নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বিস্ফোরণ: জার্মানিতে ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিচার শুরু

নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বিস্ফোরণ: জার্মানিতে ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিচার শুরু

ইউরোপের জ্বালানি ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও রহস্যময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে। বাল্টিক সাগরের তলদেশে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহের প্রধান এ সংযোগ ধ্বংসের ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে এক ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে জার্মানির বিচার বিভাগ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সার্হি কে (Serhii K) বলে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি এই বহুল আলোচিত অন্তর্ঘাতমূলক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী চক্রের অংশ ছিলেন বলে জার্মান তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভূরাজনীতির সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছিল। চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে সমগ্র অঞ্চলে নজিরবিহীন পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। প্রায় আড়াই বছর ধরে নিবিড় তদন্ত, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় তল্লাশির পর এই ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো, যা ইউক্রেন-জার্মানি সম্পর্ক এবং পশ্চিমা ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড় তৈরি করেছে।

{getToc} $title={Table of Contents}

আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

জার্মান ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাখিলকৃত নথি অনুযায়ী, সার্হি কে-এর বিরুদ্ধে আনা প্রাথমিক অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সহিংস নাশকতা ঘটানো, বিপজ্জনক বিস্ফোরণ পরিচালনা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করা। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি পেশাদার ডুবুরি দল বা কমান্ডো ইউনিটের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছিলেন, যা বাল্টিক সাগরের প্রায় ৮০ মিটার গভীরে নেমে এই সুনির্দিষ্ট আক্রমণটি পরিচালনা করেছিল।

জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (বিকেএ) নিশ্চিত করেছে যে, হামলাকারীরা রোস্টক বন্দর থেকে ভাড়া করা 'আন্দ্রোমেদা' (Andromeda) নামের একটি ৫০ ফুটের বিলাসবহুল ইয়ট ব্যবহার করেছিল। ওই নৌযানে তল্লাশি চালিয়ে সামরিক গ্রেডের বিস্ফোরক 'এইচএমএক্স' বা অক্টোজেনের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা মূলত পানির নিচে ভারী সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, সার্হি কে এই অভিযানটির লজিস্টিক্যাল প্রস্তুতি, জাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং অত্যন্ত প্রশিক্ষিত গভীর-সমুদ্র ডুবুরিদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা সার্হি কে-কে শনাক্ত করার পর জার্মানি একটি ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পোল্যান্ড এবং জার্মানির যৌথ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতায় তাকে আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়। এই বিচার প্রক্রিয়াটি কেবল একটি ব্যক্তির অপরাধের বিচার নয়, বরং সমগ্র অপারেশনের নেপথ্যে কোন রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মদদ ছিল—তা উদঘাটনের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক নজির হিসেবে কাজ করবে।

নর্ড স্ট্রিম নাশকতার পটভূমি: ইতিহাস ও জ্বালানি রাজনীতি

নর্ড স্ট্রিম ১ এবং নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন দুটি ছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম এবং একাধিক ইউরোপীয় জ্বালানি সংস্থার একটি যৌথ মেগাপ্রকল্প। এটি ইউক্রেন, পোল্যান্ড কিংবা বেলারুশের মতো ট্রানজিট দেশকে পাশ কাটিয়ে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে সরাসরি রাশিয়ার ভাইবর্গ ও উস্ত-লুগা থেকে জার্মানির লুডভিগসাউ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের জন্য নির্মিত হয়েছিল। ২০১১ সালে নর্ড স্ট্রিম ১ পুরোদমে চালু হলেও নর্ড স্ট্রিম ২-এর নির্মাণ শেষ হয় ২০২১ সালে, যা তৎকালীন সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেন কঠোর বিরোধিতা করে আসছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর জার্মানি দ্রুত নর্ড স্ট্রিম ২ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন বাতিল করে। এর কয়েক মাস পরই ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ নাটকীয়ভাবে কমে যায়, যার ফলে সমগ্র মহাদেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের বোর্নহোম দ্বীপের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধারাবাহিক শক্তিশালী ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে পাইপলাইনগুলোতে ফাটল ধরে সাগরের তলদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ঘনমিটার মিথেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে।

এই আক্রমণটিকে কোনো দুর্ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় বা আধা-রাষ্ট্রীয় সুপরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সুইডেন ও ডেনমার্ক তাদের নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শেষ করে এবং সমস্ত প্রাপ্ত প্রমাণ জার্মান তদন্তকারীদের হাতে হস্তান্তর করে, যা বর্তমান বিচারকার্যের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউক্রেনের অবস্থান ও কিয়েভের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

জার্মানিতে একজন ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে এই নাশকতার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কিয়েভের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। প্রথম থেকেই ইউক্রেনীয় সরকার এই বিস্ফোরণের সাথে তাদের কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ইউক্রেনের কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থা পশ্চিমা মিত্রদের এমন কৌশলগত অবকাঠামো ধ্বংসের সাথে জড়িত ছিল না।

"ইউক্রেন এ ধরণের কোনো নাশকতার নির্দেশ দেয়নি এবং এর সাথে দেশটির সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই। পশ্চিমা মিত্রদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিয়েভের সামরিক উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।"

তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে প্রায়শই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইউক্রেনের তৎকালীন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি গোপন বা ছদ্মবেশী সেল এই অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমনকি হামলার কয়েক মাস আগেই ইউক্রেনীয় সামরিক চক্রের এমন একটি পরিকল্পনার আভাস পেয়ে জার্মানিকে সতর্ক করেছিল বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সার্হি কে কোনো সক্রিয় সামরিক কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করছিলেন, নাকি তিনি কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক বা মতাদর্শিক গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে এতে অংশ নেন—তা এই বিচারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন

সার্হি কে-এর বিচার বার্লিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জার্মানি ছিল ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী দেশ। তবে নিজ দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের সাথে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের নাম যুক্ত হওয়ায় জার্মান রাজনীতিতে চরম ডানপন্থী ও বামপন্থী দলগুলো বর্তমান জোট সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD) এবং বামপন্থী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে যে, জার্মানি এমন একটি দেশকে নিঃশর্ত সহায়তা প্রদান করছে যাদের নাগরিকেরা জার্মানির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে, যাতে আইনি বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে কিয়েভের সাথে সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক মৈত্রী বিঘ্নিত না হয়।

এছাড়াও পোল্যান্ডের সাথে জার্মানির সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই তদন্ত কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করেছিল। জার্মানির অভিযোগ ছিল, পোলিশ ভূখণ্ডকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে অভিযুক্তরা পালিয়ে গিয়েছিল এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়ারশ তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি। ফলে এই মামলাটি শুধুমাত্র ফৌজদারি বিচার নয়, বরং ইউরোপের আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিশ্বাসের এক কঠিন পরীক্ষা।

রাশিয়ার অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার শুরু থেকেই মস্কো এই নাশকতার পেছনে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় বাজারে তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বিক্রি বাড়াতে এবং রাশিয়া-জার্মানি সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করতে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

"বাল্টিক সাগরের তলদেশে এই আক্রমণটি কেবল একটি নাশকতা ছিল না, এটি ছিল আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। তথাকথিত স্বাধীন ডুবুরি বা কোনো একক গোষ্ঠীর পক্ষে এ ধরনের গভীর সমুদ্র অপারেশন পরিচালনা করা অসম্ভব।"

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জার্মানিতে শুরু হওয়া এই বিচারকে মূল অপরাধীদের আড়াল করার একটি 'লোকদেখানো নাটক' বলে অভিহিত করেছে। ক্রেমলিনের দাবি, কতিপয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে বলির পাঁঠা বানিয়ে ন্যাটোর মূল পরিকল্পনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া বারবার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়ে এলেও পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিজস্ব বিচারিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তা নাকচ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও কৌশলগত অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ

নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংসের ঘটনা বৈশ্বিক সমুদ্র নিরাপত্তা এবং সাগরতলের অবকাঠামো সুরক্ষায় একটি নতুন শঙ্কার দ্বার উন্মোচন করেছে। সমুদ্রের তলদেশে থাকা হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট ক্যাবল, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস পাইপলাইনগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি। অথচ আন্তর্জাতিক জলসীমায় এসব অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর সামরিক বা আইনি ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল।

এই মামলাটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন কীভাবে সমুদ্র আইনের জাতিসংঘ কনভেনশন (UNCLOS) এবং নাশকতাবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদগুলো প্রয়োগ করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনো বেসরকারি অপারেটরের অধীনে কাজ করেছেন, তবে তার দায়ভার আর যুদ্ধাপরাধ বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সমতুল্য হবে কি না, তা নিয়ে আইনবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র অবকাঠামো নজরদারিতে ড্রোন ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে।

শেষ কথাঃ সার্হি কে-এর এই বিচার কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের অনুসন্ধান নয়, বরং ইউরোপের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের এক গভীর প্রতিচ্ছবি। একদিকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির নিজস্ব কৌশলগত ক্ষতিপূরণ ও আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন জোগানোর বাধ্যবাধকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েন এই আদালতের রায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। এই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কী তথ্য উন্মোচন করে, তার ওপর নির্ভর করছে ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।

তথ্যসূত্রঃ BBC

Previous Post Next Post