কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক চাহিদায় চীনের রপ্তানিতে স্মরণকালের রেকর্ড উল্লম্ফন
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর অপরিহার্য হার্ডওয়্যারের ব্যাপক চাহিদার ওপর ভর করে চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে চীনের সামগ্রিক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে ৩৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার পর দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে এটিই এখন পর্যন্ত একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির রেকর্ড। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শ্লথগতি এবং উন্নত দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নাটকীয় উত্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
চীনের কাস্টমস প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উপাদান, হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার, সার্ভার চ্যাসিস, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রযুক্তির রপ্তানি এই স্ফীতিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলো যখন বাণিজ্য সুরক্ষানীতি ও বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে চীনা প্রযুক্তি পণ্য নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট, ঠিক তখনই বৈশ্বিক এআই ইকোসিস্টেমের তীব্র চাহিদার মুখে বেইজিংয়ের সাপ্লাই চেইনের ওপর বিশ্বের এক অভূতপূর্ব নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
{getToc} $title={Table of Contents}সেপ্টেম্বরের বাণিজ্য পরিসংখ্যান: প্রবৃদ্ধির অভূতপূর্ব গতি
সেপ্টেম্বর মাসের বাণিজ্য চিত্রে দেখা যায়, গত কয়েক ত্রৈমাসিকের ধীরগতির ধারা ভেঙে চীনা রপ্তানিকারকরা এক অপ্রত্যাশিত উল্লম্ফন অর্জন করেছেন। যেখানে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল প্রবৃদ্ধি একক অঙ্কে বা বড়জোর মাঝারি গতিতে থাকতে পারে, সেখানে ৩৬.৩ শতাংশের এই বিস্তার গোটা অর্থনৈতিক পূর্বাভাসকে পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সাধারণ মাসিক বৃদ্ধি নয়, বরং কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর এটিই চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য খাতে দেখা যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
অর্থনৈতিক গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক পর্যায়ে বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং জটিল ডেটাসেন্টার গড়ে তুলতে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, তখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, অপটিক্যাল মডিউল, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড এবং কুলিং সিস্টেমের একটি বিশাল অংশ চীন থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইলেকট্রনিক্স এবং মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশের পাইকারি অর্ডারের এই হঠাৎ প্লাবন সেপ্টেম্বর মাসের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লব ও চীনের প্রযুক্তিগত আধিপত্য
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে হার্ডওয়্যার এবং উৎপাদন অবকাঠামো এক অনন্য কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীন গত এক দশকে উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদন অবকাঠামোয় যে বিপুল রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগ করেছে, বর্তমান এআই বুমের সময় তারই সুফল মিলছে। পশ্চিমা দেশগুলো নকশা ও গবেষণায় নেতৃত্ব দিলেও, বড় পরিসরে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী খরচে জটিল হার্ডওয়্যার উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের কারখানার বিকল্প পাওয়া এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় অসম্ভব।
ডেটাসেন্টার ও সার্ভার সরঞ্জামের বৈশ্বিক চাহিদা
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির মডেলগুলো প্রশিক্ষিত ও কার্যকর রাখতে হাজার হাজার নতুন ডেটাসেন্টার নির্মিত হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে ডেটাসেন্টারের এই সম্প্রসারণ সরাসরি চীনা উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত। ডেটাসেন্টারের জন্য অপরিহার্য হাই-ভোল্টেজ পাওয়ার ট্রান্সফরমার, র্যাক সার্ভার কাঠামো, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কেব্ল এবং বিশেষায়িত লিকুইড কুলিং সরঞ্জামের সিংহভাগই চীনের কারখানাগুলোতে তৈরি হয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে এই খাতটি এককভাবে বড় ধরনের অবদান রেখেছে।
মধ্যবর্তী সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক উপাদানের বাজার
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর কঠোর চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও, চীন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মিড-টায়ার এবং লিগ্যাসি সেমিকন্ডাক্টর বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। অত্যাধুনিক এআই চিপের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় হার্ডওয়্যার চালানোর জন্য কোটি কোটি সাধারণ মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট আইসি প্রয়োজন হয়। এই সেগমেন্টে চীনের উৎপাদনক্ষমতা বিশ্ববাজারে অতুলনীয়। সেপ্টেম্বরের তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ইলেকট্রনিক উপাদান এবং মধ্যবর্তী শিল্প পণ্যের চালান অভাবনীয় হারে বেড়েছে।
পটভূমি: মহামারী-পরবর্তী স্থবিরতা থেকে উত্তরণের লড়াই
চীনের এই বিপুল রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত জটিল ও বহুস্তরীয়। মহামারী পরবর্তী সময়ে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মূলত আবাসন খাতের তীব্র সংকট, দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদা এবং ঋণ জর্জরিত স্থানীয় সরকারের কারণে এক ধরণের মৃদু মন্দাভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারকরা উৎপাদনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি বা "হাই-কোয়ালিটি প্রোডাক্টিভ ফোর্সেস"-এর ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেন।
বেইজিংয়ের কৌশল ছিল সহজ—অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি পূরণ করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারের কাছে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্য রপ্তানি করে। তবে গত বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই কৌশল বারবার বাধার মুখে পড়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক এআই বিনিয়োগের জোয়ার চীনের উৎপাদন খাতকে এক নতুন লাইফলাইন প্রদান করে, যার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন দেখা গেল চলতি সেপ্টেম্বরের ৩৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির রেকর্ডে।
ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: শুল্ক প্রাচীর বনাম বাজার বাস্তবতা
চীনের এই বিপুল রপ্তানি বৃদ্ধি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির ময়দানে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে বেইজিং সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা (Overcapacity) তৈরি করছে এবং সস্তা পণ্য দিয়ে বৈশ্বিক বাজার ভাসিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি এবং সৌর প্যানেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একের পর এক চড়া শুল্ক আরোপ করেছে। তবে এআই অবকাঠামোর বৈশ্বিক ক্ষুধা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুল্ক এবং বাণিজ্য বাধা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা সরবরাহকারীদের থেকে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধের কার্যকারিতা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিধিনিষেধ মূলত কাঁচামাল বা মধ্যবর্তী পণ্যের প্রবাহ পুরোপুরি আটকাতে পারে না, বরং তা বিকল্প পথ ঘুরে বাজারে পৌঁছায়।
"চীনের এই অবিশ্বাস্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করা কতটা কঠিন। বিশেষ করে এআই হার্ডওয়্যারের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিকল্প উৎপাদন চেইন গড়ে তোলার চেয়ে চীনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করাই কর্পোরেট দুনিয়ার জন্য এখন বেশি বাস্তবসম্মত।"
ইউরোপের শিল্প মহলেও এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স মন্তব্য করেছে যে, একদিকে চীনের উন্নত পণ্য পশ্চিমা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর চীনা বাজারের ওপর নির্ভরতা আরও সংহত হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিপ্লবের চাবিকাঠি যদি এককভাবে কোনো একটি দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাৎক্ষণিক প্রভাব: চীনা মুদ্রা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি
সেপ্টেম্বরের বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। শক্তিশালী রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার অন্তঃপ্রবাহের কারণে চীনা ইউয়ানের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। এটি চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (PBOC) জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছে, কারণ তারা সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যাপক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল।
একই সঙ্গে, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলেও এই প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং তাইওয়ানের প্রযুক্তি কারখানাগুলো, যারা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত, তাদের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী বাণিজ্যেও উল্লেখযোগ্য গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের সার্বিক শিপিং ও মালবাহী কনটেইনারের ভাড়াও সাময়িকভাবে কিছুটা বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের চাকা পুনরায় সচল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের সমীকরণ
যদিও সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবুও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে এই প্রবৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রথমত, এআই সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণের বর্তমান উন্মাদনা বা 'হাইপ' যদি কোনো কারণে থমকে যায়, তবে হার্ডওয়্যারের চাহিদাতেও টান পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, এআই খাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হচ্ছে, তার বিপরীতে মুনাফার হার কতটা বাস্তবসম্মত।
দ্বিতীয়ত, উন্নত দেশগুলোর নতুন সুরক্ষাবাদী নীতি আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যান্টি-সাবসিডি তদন্ত চীনের রপ্তানি খাতকে আরও তীব্র বাধার মুখে ফেলতে পারে। ফলে চীন কেবল বৈদেশিক রপ্তানির ওপর ভর করে তাদের বিশাল অর্থনীতিকে অনির্দিষ্টকাল টেনে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।
শেষ কথাঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে চীনের রপ্তানি খাতের এই ঐতিহাসিক উল্লম্ফন কেবল তাদের উৎপাদনশীলতার গভীরতাকেই তুলে ধরে না, বরং এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক প্রযুক্তি অর্থনীতিতে বিশ্ব এখনও চীনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা ও বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে সেপ্টেম্বরের এই ৩৬.৩ শতাংশের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি বেইজিংয়ের জন্য এক বিরাট স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সম্ভাব্য সংশোধন আগামী দিনগুলোতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীনের সামনে অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্রঃ Al Jazeera